বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৪ অপরাহ্ন
গরুর এলএসডি ভাইরাসে কোরবানির ঈদে বড় বিপর্যয়!
জাহিদ হাসান, জামালপুর জেলা প্রতিনিধি
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে দেশের পশুর হাটগুলো প্রস্তুত হচ্ছে, তবে এ বছর এক ভিন্ন ধরনের হুমকি সামনে এসেছে—গরুর লাইমফোস্কিন ডিজিজ (Lumpy Skin Disease বা এলএসডি)। প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা, বিশেষ করে জামালপুরসহ উত্তরাঞ্চলের হাটগুলোতে সতর্কতা জারি করেছে।
এলএসডি একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা গরুর ত্বকে গুটি তৈরি করে, জ্বর, দুধ উৎপাদন হ্রাস এবং কখনো কখনো মৃত্যুর কারণও হতে পারে। এটি আক্রান্ত গরুর শরীর থেকে মাছি বা মশার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের সতর্কতা
জামালপুর জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মাহফুজুর রহমান জানান, “এলএসডি বর্তমানে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো থেকে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আমরা পশুর হাটগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার বুথ স্থাপন করছি এবং খামারিদের সচেতন করছি।”
কীভাবে ছড়ায় এবং প্রতিরোধ
ভাইরাসটি মূলত মাছি, মশা বা অন্যান্য রক্তচোষা কীটের মাধ্যমে এক গরু থেকে অন্য গরুতে ছড়ায়। সংক্রমিত গরুর চামড়ায় গুটি দেখা দেয় এবং সেই সঙ্গে জ্বর, দুর্বলতা, ক্ষুধামান্দ্য ও দুধ কমে যাওয়া দেখা দেয়।
করণীয়
হাটে গরু কেনার আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষার নিশ্চয়তা নেওয়া, অসুস্থ গরু চিহ্নিত করে আলাদা রাখা, গবাদিপশুর আশেপাশে মশা-মাছির বিস্তার রোধে স্প্রে ব্যবহার, খামার পর্যায়ে টিকাদান নিশ্চিত করা ।
জামালপুরের প্রস্তুতি
জেলা প্রশাসন ও প্রাণী সম্পদ বিভাগ ইতোমধ্যে যৌথভাবে একটি পর্যবেক্ষণ টিম গঠন করেছে। জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে খামারিদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সতর্কতা ও সচেতনতার বার্তা
জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোরবানির জন্য গরু কেনার আগে অবশ্যই পশুটির স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।